ডেস্ক রিপোর্ট:ব্যাংকিং কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। তবে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কংগ্রেস আপাতত পদত্যাগ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ফলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে হবে তাকে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত দুই দিন আগে। প্রেসিডেন্ট পেনার সংশ্লিষ্টতা থাকা উয়েনো ব্যাংক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের ব্যাংকে জমা রাখা অর্থ আটকে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অবসরভোগীরাও রয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী আসুনসিওনে কংগ্রেস ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ‘আমাদের টাকা ফেরত দাও’ বলে স্লোগান দেন। এর আগে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
ব্যাংকিং সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, অসদাচরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পেনার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে সর্বসম্মতভাবে ভোট দেন আইনপ্রণেতারা।
পেনা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অভিশংসন বিচারে তিনি অংশ নেবেন। এর আগে ব্যাংকিং সংকটের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য দেশটির জনগণের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পেনা বলেন, জনগণের দেওয়া আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। একই সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে সঞ্চয় জমা রাখা নাগরিকদের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দূর করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনরিক রিয়েরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক সরকারি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পেয়েছেন কার্লোস বেনিতেজ।
প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূলধনের গুরুতর ঘাটতির কারণে উয়েনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেনার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ছিল। তবে গত বছর তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করে দেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কার্লোস কারভালোর পদত্যাগের অনুরোধ জানান। কারভালো তাতে সম্মত হন। পাশাপাশি ব্যাংকে আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য পাঁচ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। তবে এসব পদক্ষেপেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বৃহস্পতিবার পেনার পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে, নাকি অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। তবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য উপস্থিত না থাকায় কোরাম পূরণ হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো ভোটাভুটি করা সম্ভব হয়নি।
সূএ: (এএফপি)
