ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী অভিযাত্রী শাখার শিশু সমাবেশ, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট: বর্তমান সমাজে শিশু-কিশোরদের নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। তিনি বলেন, অব্যবহৃত সময়ের যথাযথ ও সৃজনশীল ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় আজকের অনেক শিশু-কিশোর মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে ফুলকুঁড়ি আসরের মতো আদর্শিক, সাংস্কৃতিক ও শিশু-কিশোরবান্ধব সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফুলকুঁড়ি আসরের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও স্মৃতিচারণ করে তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং নিজের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফুলকুঁড়ি আসর কেবল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়; বরং শিশু-কিশোরদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, একসময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভুল সংশোধনে শাসন ও অনুশাসনের ভূমিকা পালন করতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করছে না। এমনকি শাসন বা সংশোধনের চেষ্টা করলে শিক্ষকের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করার মতো ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না; তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ, শিষ্টাচার ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফুলকুঁড়ি আসরের মতো সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি শিশু-কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীল চর্চার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে ফুলকুঁড়ি আসরের কার্যক্রম আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।
