ডেস্ক রিপোর্টঃ ভারতে পলায়নের পর থেকে একের পর এক অডিও ফোনালাপ ফাঁস হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এবার প্রকাশ্যে এসেছে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে তার একটি কথোপকথন, যেখানে জাতীয় পার্টিকে ‘জিন্দা লাশ’ আখ্যায়িত করে দলটিকে আর প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ফোনালাপটি পোস্ট করেন। কথোপকথনটি গত বছরের জুলাই মাসের, যখন দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস থেকে রাজধানী পর্যন্ত।
নানককে হুঁশিয়ারি শেখ হাসিনার
ফাঁস হওয়া রেকর্ডে শেখ হাসিনাকে নানককে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়—
“তুমি আমাকে যা বলবা, সত্যি কথা বলবা।”
জবাবে নানক বলেন, “জি, বলব।”
এরপর শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, “মোহাম্মদপুরের বিহারী পট্টির লোকদের ভূমিকা কী?”
নানক উত্তরে বলেন, “ওদের ভূমিকা ভালো, আপা। শুধু সেন্টু কমিশনার নামে একজন জাতীয় পার্টির লোক আছে। তার সঙ্গে কয়েকজন ছেলে আছে। কিন্তু মোহাম্মদপুরে সব ঠিক আছে, শুধু পল্লবীতে কিছু ঝামেলা।”
তখন নানক বলেন, “সেন্টুকে ধরলে আবার জাতীয় পার্টি চ্যাতবে।”
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শেখ হাসিনা ধমক দিয়ে বলেন, “চুপ করো, জাতীয় পার্টি চ্যাতলে আমাদের কী আসে যায়? জাতীয় পার্টি আর কত? দরকার নাই ওই পার্টির। ওরা জিন্দা লাশ। আমি এবার একটারেও ছাড়ব না।”
নানক জবাবে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “একেবারে ছাইকা ফেলতে হবে, আপা।”
ইনুর সঙ্গে আলাপ
এর আগের দিন, রোববার (১৬ আগস্ট) জুলকারনাইন সায়ের আরেকটি ফোনালাপ প্রকাশ করেন, যেখানে শেখ হাসিনা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথা বলেন। ৫ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ওই রেকর্ডে ইনু শেখ হাসিনাকে বলেন, “আপনার ডিসিশনটা খুবই কারেক্ট হইছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি একটু দয়া করে অ্যারেস্ট করতে বলেন সবাইকে। তাহলে আর মিছিল করার লোক থাকবে না।”
এর জবাবে শেখ হাসিনা সম্মতি দিয়ে বলেন, “আমরা রণক্ষেত্রের সাথী।”
এ সময় ইনু পরামর্শ দেন ইন্টারনেট চালু করার, যাতে সরকারপক্ষীয় প্রচারণা চালানো সহজ হয়। তবে শেখ হাসিনা উত্তর দেন, “কীভাবে চালু করব? ওরা ইন্টারনেট পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি আর চালু করতে পারব না, অন্য সরকার এসে করলে করবে।”
ইনু তখন বলেন, “বাংলাদেশে আর অন্য সরকার আসবে না।” এছাড়া জামায়াত-শিবিরের তালিকা তৈরি করে তাদের ধরে ফেলতে পরামর্শ দেন তিনি। শেখ হাসিনাকেও এতে সম্মতি দিতে শোনা যায়।
একের পর এক ফাঁস হওয়া কল রেকর্ড
জুলকারনাইন সায়েরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছরে শেখ হাসিনার অন্তত অর্ধডজন ফোনালাপ প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে ঢাকার সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ইনুসহ একাধিক ঘনিষ্ঠ নেতার সঙ্গে তার কথোপকথন রয়েছে। প্রতিটি ফোনালাপেই দেখা যাচ্ছে আন্দোলন দমন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অবজ্ঞা ও কঠোর হুঁশিয়ারি।
