ডেস্ক রিপোর্টঃ এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য (এমপি) হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, সরকারের অপরিকল্পিত ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণেই দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হান্নান মাসউদ বলেন, তারা বাংলাদেশের পক্ষে এবং দেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান করছেন। তবে বর্তমান সরকার বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কায়দায় দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হান্নান মাসউদ বলেন, তারা বাংলাদেশের পক্ষে এবং দেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান করছেন। তবে বর্তমান সরকার বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কায়দায় দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকারের অপরিকল্পিত ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি করুণ হয়ে উঠেছে। সরকার কীভাবে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করা যায়, সেদিকেই বেশি ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, যেকোনো আন্দোলনে আওয়ামী লীগের লোকজন খুঁজে বের করার কথা সরকার বলছে। কিন্তু এত গোয়েন্দা সংস্থা ও নজরদারি থাকার পরও কীভাবে আন্দোলনের মধ্যে আওয়ামী লীগের লোকজন প্রবেশ করছে, সেটি সরকারের কাছে প্রশ্ন।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, সরকারের নেতাকর্মীদের একটি অংশ অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। এ কারণেই তারা বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সাহস পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের লোকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে হান্নান মাসউদ বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের লোকজন প্রবেশ করলে তার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপানো ঠিক হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দোষারোপ করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং মালিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অযোগ্য মন্ত্রী ও চাঁদাবাজদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হান্নান মাসউদের দাবি, সরকার যদি চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে বিভিন্ন আন্দোলনে আওয়ামী লীগের লোকজনের সম্পৃক্ততার সুযোগ কমে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত, চাঁদাবাজি এবং শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির এই সংসদ সদস্য।
