সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।

এর আগে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাহসিফ নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন বিকেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ঘটনার দিন দীপ তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ, সম্ভাব্য সহযোগীদের পরিচয়, ব্যবহৃত আলামত, তাহসিফের মোটরসাইকেল এবং মৃত্যুর প্রকৃত স্থান শনাক্ত করতে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততার কারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি রাষ্ট্রপক্ষের উত্থাপিত একটি সম্ভাব্য কারণ; তদন্তে তা এখনো প্রমাণিত হয়নি।অন্যদিকে, দীপের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাহসিফের সঙ্গে তার ছয় বছরের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল এবং তিনি শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন। তাদের দাবি, দীপ মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হচ্ছেন। তারা মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ওই মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
