কালীগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, হাজারো ডিসেম্বর এলেও শেখ হাসিনা আর দেশে ফিরবেন না। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা ও বিরোধী দল হিসেবে দলটির বক্তব্যের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সার্বজনীন কালীবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন—এ কথা পাগলেও বিশ্বাস করে না। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির অধিকাংশ সংসদ সদস্য অতীতে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আশীর্বাদ ও ‘ওয়েলফেয়ার মেকানিজমের’ মাধ্যমে তাঁরা সংসদ সদস্য হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে রাজপথের আন্দোলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে বলেও দাবি করেন রাশেদ।
জামায়াতের আমিরের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সমন্বয় প্রয়োজন ছিল, জামায়াত তা ধারণ করতে পারছে না। তাঁর অভিযোগ, ফ্যাসিবাদের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে ধরনের ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হতো, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধেও জামায়াত প্রায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে।
- বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে জামায়াত নেতাদের বক্তব্যের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। ‘পালিয়ে যাবেন’, ‘লুঙ্গি থাকবে না’, ‘হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখুন’ কিংবা ‘আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে’—এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে নিজেদের হাসির পাত্র না করার জন্য দলটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে ‘শকুনের মতো ঠুকরে ঠুকরে ছিঁড়ে খাবে’।
কালীগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম হামিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, উপজেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল ইসলাম রুনু, সাবেক ছাত্রনেতা লুৎফুজ্জামান লেন্টু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস রহমান মিঠু, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহবুবুর রহমান মিলন, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক আহ্বায়ক মোকসুদুল মোমিন, রবিউল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুজ্জামান স্বপনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
