মণিপুরে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহতের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ডেস্ক রিপোর্ট:ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ নেই। নতুন করে সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজ্যটিতে উত্তেজনা বাড়ছে। সর্বশেষ সোমবার ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলায় দুজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে নিহতদের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে নংশুম ও খোংবাল থাংখুল জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সশস্ত্র হামলার শিকার হন। এতে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হন। পরে নিহতদের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ফটকের সামনে জড়ো হন। তাঁরা সহিংসতা বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এক মাসে নিহত অন্তত ৪০
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে মণিপুরে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৬০ জন। চলতি বছরের শুরু থেকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যকার সংঘাতসহ বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউ খেমচাঁদ সিং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে বাড়ছে উদ্বেগ
গত ৯ ও ১০ তারিখে কামজং, কাংপোকপি ও উরখুল জেলায় সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হন। এরপর শনিবার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় গুলিতে কুকি সম্প্রদায়ের একজন নিহত এবং চারজন আহত হন। ওই ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ২৮টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রোববার রাতে থৌবাল জেলার খাঙ্গাবক গ্রামে একটি কনসার্ট চলাকালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের গুলিতে লাইশরাম রাকেশ নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় থৌবাল জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি কারফিউ জারি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে প্রশাসন।
নিরাপত্তার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ
সোমবারের সশস্ত্র হামলায় নিহতদের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বারবার সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। তাঁরা নিরাপদে চলাচল ও দৈনন্দিন কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের জাতিগত বিরোধ, ধারাবাহিক প্রাণহানি এবং নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় মণিপুরের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। নিরাপত্তা জোরদারের সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না আসায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিগত বিরোধ নিরসন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
