নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ইসরায়েলে প্রায় দুই হাজার বছর পর লাল হাইফার রীতি পালনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার সঙ্কেত দিচ্ছে। জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানকে অনেকেই ধর্মীয় পুনর্জাগরণের পদক্ষেপ মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—এটি অঞ্চলজুড়ে ধর্মীয় উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক সংঘাত আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সম্প্রতি শিলোহ থেকে আনা একটি লাল গাভী পোড়ানোর মাধ্যমে ‘রেড হাইফার রিচ্যুয়াল’-এর অনুশীলনী আয়োজন সম্পন্ন হয়। যদিও ধর্মীয় মানদণ্ডে গরুটি সম্পূর্ণ যোগ্য ছিল না, তবুও এ আয়োজনকে তৃতীয় মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর এই ধারণাই ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তৃতীয় মন্দির ইস্যু ও সংঘাতের ঝুঁকি
ইহুদি ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, জেরুজালেমের পুরনো টেম্পল মাউন্ট এলাকায় তৃতীয় মন্দির নির্মাণের আগে লাল হাইফার উৎসর্গ জরুরি। কিন্তু এ স্থানেই বর্তমানে অবস্থিত ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ। ফলে এ ধরনের আয়োজন মুসলিম বিশ্বের কাছে সরাসরি ধর্মীয় উসকানি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু ধর্মীয় আবেগই নয়, বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইতোমধ্যেই ইসরায়েল ও গাজা সংঘাত উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এর মাঝে ‘তৃতীয় মন্দির’ ইস্যু সামনে আসা আঞ্চলিক সহিংসতা ও নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
বৈশ্বিক প্রতিধ্বনি
খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মীয় গোষ্ঠীর একাংশ এ ঘটনাকে বাইবেলীয় ভবিষ্যদ্বাণী পূরণের ধাপ হিসেবে দেখলেও, মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুর উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে যেখানে সামান্য উসকানিও অস্থিরতা ডেকে আনে, সেখানে এই আয়োজনকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
Belgrade News
