নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ, ব্যানার ব্যবহারে ইসির কড়াকড়ি
ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং তাদের পক্ষে প্রচারণা পরিচালনাকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আগাম তথ্য জমা বাধ্যতামূলক
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সকল রিটার্নিং অফিসারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বুধবার বাসসকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫–এর বিধি ১৬ অনুসারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা দলকে ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইল আইডিসহ শনাক্তকরণ তথ্য আগেই জমা দিতে হবে।
সব ডিজিটাল প্রচারণা থাকবে নজরদারিতে
অর্থাৎ, ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, এক্স (টুইটার) বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালালেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত থাকবে। ফলে অনিয়ন্ত্রিত বা গোপন প্রচারণা কমবে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যয়ও নির্বাচনী ব্যয়ের অংশ
এছাড়া আচরণ বিধিমালার বিধি ২২ (২) অনুযায়ী, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সব ধরনের অনলাইন প্রচারণার ব্যয় প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। তাই এ খাতে ব্যয় আলাদা করে গোপন রাখা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হিসাবেই তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং সহজ করতে নির্দেশ
নির্বাচন কমিশন মনে করছে, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণার বড় মাধ্যম। তাই এ খাতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসাররা যেন তাদের এলাকায় কোন দল বা প্রার্থী কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে তার তালিকা প্রস্তুত করে ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় পাঠান। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল প্রচারণা মনিটরিং সহজ হবে।
ডিজিটাল নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য, গোপন প্রচারণা এবং অঘোষিত অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনা ডিজিটাল নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
