জয়পুরহাটে পিআইবি’র নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতীক বরাদ্দ শেষ হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী, এই প্রচার কার্যক্রম চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের আগের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার বন্ধ করতে হবে।
ইসি জানায়, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন বাদে ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছেন।প্রচারণাকালে প্রার্থীদের অবশ্যই ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ মেনে চলতে হবে। আচরণবিধি অনুযায়ী, সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন; তবে প্রতিপক্ষের সভা-সমাবেশে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই।ইসি জানিয়েছে, জনসভা ও প্রচার কর্মসূচির বিষয়ে আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে, যাতে একাধিক প্রার্থীর কর্মসূচিতে সমন্বয় করা যায়।
জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন সড়ক বা জনপথে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। বিদেশে অবস্থান করে বা বিদেশের মাটিতে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এবার প্রচারণায় পোস্টার, পলিথিন, প্লাস্টিক বা রেক্সিনের মতো অপচনশীল সামগ্রী ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন।
দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার বা ফেস্টুন টানানো যাবে না।ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত ব্যানার ও ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো রঙের। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ফুট বাই ৪ ফুট এবং ফেস্টুনের ক্ষেত্রে ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। এতে প্রার্থী ও তার প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না।দেয়ালে লিখে বা অংকন করে প্রচার এবং গেট বা তোরণ নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কোনো প্রার্থীর ব্যানার বা বিলবোর্ড নষ্ট করা কিংবা অন্য প্রার্থীর প্রচার সামগ্রীর ওপর তা ঝুলানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।পরিবহন ব্যবহার করে শোডাউন বা মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ট্রাক, বাস, নৌযান বা মোটরসাইকেল নিয়ে মিছিল করা যাবে না। মশাল মিছিলও নিষিদ্ধ। দলীয় প্রধান বা সাধারণ সম্পাদক হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারলেও সেখান থেকে কোনো লিফলেট বা প্রচার সামগ্রী ফেলা যাবে না।
বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে, যার আয়তন হবে অনধিক ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কারও ছবি বিকৃত করা, ভুয়া তথ্য বা ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট শেয়ার করা যাবে না।
প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডির তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা, অশালীন বক্তব্য এবং নারী, সংখ্যালঘু বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে প্রার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচার চালানো যাবে না। এছাড়া দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ তিনটি মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার শব্দমাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।ইসি সূত্র জানায়, শুরুতে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল।
এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫৫টি বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৫টি বাতিল হয়। আপিলের মাধ্যমে ৪৩৭ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান। পরে নির্ধারিত সময়ে ৩০৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
