ডেস্ক রিপোর্ট: গাজায় গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৪৪ দিনে ইসরায়েল অন্তত ৪৯৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে শিশু, নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিসহ প্রায় ৩৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে গণমাধ্যম কার্যালয় বলেছে, “আমরা ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিক ও অবিরাম গুরুতর লঙ্ঘনের কড়া নিন্দা জানাই।”
“তাদের এই কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং চুক্তি সংশ্লিষ্ট মানবিক নিয়ম-নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।” যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী কেবল শনিবারই (২২ নভেম্বর) ২৭টি হামলা চালিয়েছে। এতে ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৮৭ জন আহত হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে ।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত ক্ষতির জন্য ইসরায়েলকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করা হয়েছে বিবৃতিতে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উল্লেখ থাকার পরও ইসরায়েল বিধ্বস্ত গাজায় প্রয়োজনীয় জরুরি সাহায্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী শনিবার (২২ নভেম্বর) গাজাজুড়ে বিমান হামলা চালায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চলে ছয় সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সর্বশেষ এই ঘটনায় শিশুসহ কমপক্ষে ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলছে, গাজার হলুদ রেখা দিয়ে চিহ্নিত ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে হামাসের এক যোদ্ধা সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা এসব হামলা চালিয়েছে।
এতে পাঁচজন ঊর্ধ্বতন হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর আক্রমণকারী যোদ্ধাদের পরিচয় প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য ইজ্জত আল-রিশেক গাজা চুক্তির মধ্যস্থতাকারীদের এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইসরায়েলকে গাজা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি এড়িয়ে যাওয়া এবং বিধ্বংসী যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার জন্য অজুহাত তৈরি করছে। ইসরায়েলই প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করছে।”
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে – এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেন আল-রিশেক।
গাজা সিটি থেকে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আযম রোববার (২৩ নভেম্বর) বলেছেন, “গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কেবল নামমাত্র। বাস্তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী গাজাজুড়ে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে।”
তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির পরও এ ধরনের হামলার ফলে গাজার ফিলিস্তিনিরা আরও অনিরাপদ বোধ করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল গাজার আরও গভীরে তাদের বাহিনী পুনরায় স্থাপন করায় উত্তর গাজায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বানোয়াট অজুহাতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারকে এ বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজায় অবস্থিত হলুদ রেখার (অচিহ্নিত সীমানা) বাইরেও পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। সেখানে মোতায়েন আছে ইসরায়েলি সেনা। চুক্তির অংশ হিসাবে থাকা নির্ধারিত সীমানা তারা পরিবর্তন করে চলেছে।
