
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করেছে, যেখানে যুক্ত হয়েছে আরপিও সংশোধনে সাতটি যুগান্তকারী পরিবর্তন ।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রধান পরিবর্তনগুলো সংক্ষেপে:
জোটের প্রতীক বাতিল, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন:
নতুন আরপিও অনুযায়ী, কোনো জোট গঠিত হলেও প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। জোটগত প্রতীকের ধারণা এখন বাতিল।
সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্তর্ভুক্তি:
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে, তারা নির্বাহী আদেশ ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
ইভিএম বাতিল ও পলাতকদের নিষেধাজ্ঞা:
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, যারা মামলায় পলাতক, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
‘না’ ভোটের সুযোগ:
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ‘না’ (None of the Above) ভোটের অপশন থাকবে। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলেও ভোটাররা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন।
প্রার্থীর সম্পদ-আয় প্রকাশ বাধ্যতামূলক:
সব প্রার্থীকে দেশি-বিদেশি আয়ের বিস্তারিত বিবরণ অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে জমা দিতে হবে, যা জনস্বার্থে অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।
জামানত বৃদ্ধি ও ইসির ক্ষমতা বাড়ানো:
প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, অনিয়ম প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন এখন পুরো আসনের ভোট স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।
জেলা নির্বাচনী কার্যালয়ের ক্ষমতা:
জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা নিজেই এখন কার্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণ করতে পারবেন।
এই আরপিও সংশোধনে সাতটি যুগান্তকারী পরিবর্তন মূলত আগামী জাতীয় নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।
