চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি বন্ধ করায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নতুন রপ্তানি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ডেক্স রিপোর্ট: ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব সয়াবিন বাজারে বড় পরিবর্তন এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে চীন, যা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আমেরিকান সয়াবিন এখন তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, ফলে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা লাভবান হচ্ছেন।
একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। এতে চীন বিকল্প হিসেবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দিকে ঝুঁকেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জমে থাকা বিশাল সয়াবিন মজুত বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সাশ্রয়ী আমদানির পথ খুলে দিয়েছে।
বাংলাদেশের শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, তারা আগের তুলনায় দ্বিগুণ সয়াবিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনছে। কারণ এখন মার্কিন সয়াবিনের দাম ব্রাজিলের তুলনায় টনপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ ডলার কম। পাশাপাশি বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা রয়েছে।
ডেল্টা অ্যাগ্রোফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, আমেরিকান সয়াবিনের মান ভালো এবং দামেও প্রতিযোগিতামূলক। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে প্রায় ৪ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করছে, যা চীনের কম আমদানির ফলে আরও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করেছে, যা আগের দুই মাসের দ্বিগুণ। এতে বাংলাদেশের সয়াবিন তেল উৎপাদন ৯ শতাংশ বেড়ে ২৪ লাখ টনে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
চীনের বয়কট ও মার্কিন বাজারের নতুন ভারসাম্যে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক সয়াবিন বাণিজ্যের এক উদীয়মান খেলোয়াড়ে পরিণত হচ্ছে।
