ডেস্ক রিপোর্টঃ৩৬ বিলিয়ন সূর্যের সমান মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোল আবিষ্কার।
বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলের সন্ধান দিয়েছেন। পৃথিবী থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই অতিবৃহৎ ব্ল্যাক হোলের ভর আমাদের সূর্যের তুলনায় প্রায় ৩৬ বিলিয়ন গুণ বেশি, যা মহাবিশ্বের অন্যতম ভারী বস্তু হিসেবে বিবেচিত।
এই ব্ল্যাক হোলের ভর আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা ব্ল্যাক হোলের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার গুণ বেশি। এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে Monthly Notices of the Royal Astronomical Society জার্নালে। ব্ল্যাক হোলটি অবস্থিত “কসমিক হর্সশু” নামের এক দূরবর্তী গ্যালাক্সিতে, যার অনন্য আকৃতি এসেছে মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে।
এটির বিশাল মহাকর্ষ এতটাই শক্তিশালী যে এটি আশপাশের স্থান ও সময়ের কাঠামো (fabric of space-time) বাঁকিয়ে দেয়, ফলে কণিকা এবং এমনকি আলোও এর চারপাশ দিয়ে চলার সময় পথ পরিবর্তন করে। বিজ্ঞানীরা “গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং” নামের এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্ল্যাক হোলটি শনাক্ত করেন। এই পদ্ধতিতে কাছাকাছি একটি গ্যালাক্সিকে প্রাকৃতিক লেন্স হিসেবে ব্যবহার করে দূরের বস্তুগুলোর আলোকে বড় করে ও বিকৃত করে দেখা যায়।

এই বিকৃত আলোর বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই ব্ল্যাক হোলের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, এই ব্ল্যাক হোলটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত শীর্ষ দশটি বৃহত্তম ব্ল্যাক হোলের একটি, এবং সম্ভবত এটি-ই সবচেয়ে বড়।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ব্ল্যাক হোলটি বর্তমানে “নিষ্ক্রিয়” বা ডরম্যান্ট অবস্থায় রয়েছে—অর্থাৎ এটি এখন গ্যাস বা পদার্থ টানছে না। সাধারণত নিষ্ক্রিয় ব্ল্যাক হোল পর্যবেক্ষণ করা খুব কঠিন, কারণ এগুলো খুব কম আলো বা শক্তি নির্গত করে। তবে গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং-এর কারণে বিজ্ঞানীরা এই নীরব দৈত্যকে খুঁজে পেয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গবেষকরা মূলত “কসমিক হর্সশু” গ্যালাক্সিতে ডার্ক ম্যাটারের বণ্টন নিয়ে গবেষণা করছিলেন। কিন্তু সেই গবেষণার মাঝেই এই অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার হয়, যা নিষ্ক্রিয় ব্ল্যাক হোল এবং গ্যালাক্সি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন গবেষণার পথ খুলে দিয়েছে।
