ডেস্ক রিপোর্ট:বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া সিলিং বাংলাদেশের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার ইতিমধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক দেনা ও বকেয়া বিল পরিশোধ করেছে। এরপরও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে।
তিনি বলেন, “আইএমএফ চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আমাদের ১.৯১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সীমা নির্ধারণ করলেও আমরা নিয়েছি মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আমরা এখন অত্যন্ত সতর্কভাবে বিদেশি ঋণ নিচ্ছি।”
সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “আমরা এ বছর কোনো বাজেট সহায়তা ঋণ নেব না। কারণ বাজেট সহায়তা নেওয়া হলে ঋণদাতাদের নানা শর্তের কারণে স্বাধীনভাবে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”
তিনি জানান, অক্টোবর মাসে আইএমএফের বোর্ড সভায় অংশ নিলেও বাংলাদেশ অতিরিক্ত কোনো ঋণ চাইবে না। “আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক বা এডিবি থেকে আমরা কোনো বাড়তি ঋণ নিতে আগ্রহী নই। এমনকি চীনের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ঋণ দিতে আগ্রহ দেখালেও আমরা আপাতত না বলেছি,” তিনি বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার এখন রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। “কর ফাঁকিবাজদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে, দুর্নীতি কমেছে, ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়ছে,” উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা, যাতে ভবিষ্যৎ সরকার অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণের বোঝায় না পড়ে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারের বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্বভিত্তিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
