ডেস্ক রিপোর্ট: শত বছরের ঐতিহ্য ও স্বাদে অনন্য ‘নেত্রকোণার বালিশ মিষ্টি’ এখন বাংলাদেশের একটি স্বীকৃত জি.আই (Geographical Indication) পণ্য।
দেখতে অনেকটা বালিশের মতো এই মিষ্টির ওপরের ক্ষীরের প্রলেপ ও দুধের মালাই একে দেয় বিশেষ আবরণ, যা এর নামের সঙ্গে চমৎকার সামঞ্জস্য রাখে। স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় ‘গয়ানাথের বালিশ’, কারণ এর উদ্ভাবক ছিলেন নেত্রকোণার বিখ্যাত মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ।
নেত্রকোণা শহরের বারহাট্টা রোডের ‘গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডার’-এ এক শতাব্দীরও আগে জন্ম নেয় এই অনন্য মিষ্টান্ন। বিয়ে, পূজা, ঈদ, জন্মদিন কিংবা নতুন জামাইয়ের আগমনে বালিশ মিষ্টি আজও নেত্রকোণার উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বালিশ মিষ্টি তৈরি হয় দেশীয় গাভির খাঁটি দুধ, ছানা, ময়দা ও চিনি দিয়ে। প্রথমে ছানা ও ময়দা মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয় মিষ্টির আকৃতি। এরপর তা ভাজা হয় চিনির গরম রসে এবং শেষে ক্ষীর বা মালাইয়ের প্রলেপে সাজানো হয়।
বর্তমানে এই মিষ্টি ৩০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা দামের মধ্যে বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় বালিশ মিষ্টি একসঙ্গে পাঁচ-ছয়জন মিলে খাওয়া যায়।
গয়ানাথ ঘোষের উত্তরসূরি বাবুল মোদক জানান, “আমাদের দোকানটির বয়স এখন শত বছরেরও বেশি। আমরা নেত্রকোণায় একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা মূল গয়ানাথের রেসিপি ধরে রেখেছি। এখন এটি জি.আই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত।”
নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, “বালিশ মিষ্টি আমাদের জেলার গর্ব। জি.আই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে নেত্রকোণার এই ঐতিহ্য আরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।”
বালিশ মিষ্টি নিয়ে স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতিতেও রয়েছে বহু ছড়া-কবিতা। এক জনপ্রিয় ছড়া হলো—
“জাম, গোল্লা পেয়ে শ্বশুর করলো চটে নালিশ,
কথা ছিল আনবে জামাই নেত্রকোণার বালিশ।”
এমনকি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখাতেও এসেছে এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির উল্লেখ।
আজও প্রতিদিন গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারে ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকে বারহাট্টা রোড। নেত্রকোণার সীমানা ছাড়িয়ে এখন দেশ ও বিদেশে ‘বালিশ মিষ্টি’ নেত্রকোণার মিষ্টি ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
