ডেস্ক রিপোর্ট: রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বছরে সর্বোচ্চ তিনটি উৎসাহ বোনাস দেওয়ার নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বৃহস্পতিবার এ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়।
নতুন নিয়মে পারফরম্যান্স বা কর্মসম্পাদনের ভিত্তিতেই বোনাস নির্ধারণ হবে। এতদিন পরিচালন মুনাফার ওপর ভিত্তি করে বোনাস দেওয়া হলেও এখন থেকে নিট মুনাফার ভিত্তিতে হিসাব হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণ ও অগ্রিম প্রভিশন, বিনিয়োগের মূল্য পরিবর্তনজনিত প্রভিশন এবং অন্যান্য সম্পদের প্রভিশন বাদ দিয়ে নিট মুনাফা গণনা করতে হবে। এর মাধ্যমে বোনাস প্রদানে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনা হবে।
সূত্র জানায়, অতীতে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নীতিমালা ভঙ্গ করে একাধিক বোনাস দিয়েছে। ২০২৩ সালে সোনালী ব্যাংক সর্বোচ্চ তিনটির পরিবর্তে পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেয়, যা নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আপত্তি জানায়।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বোনাস প্রদানে নির্দিষ্ট সূচক বা কর্মসম্পাদন পরিমাপক ব্যবহার করতে হবে। যেমন—নিট মুনাফার হার, আমানত বৃদ্ধি, ঋণ বৃদ্ধির হার, খেলাপি ঋণ আদায় এবং অবলোপনকৃত ঋণ পুনরুদ্ধারের হার। বিশেষায়িত ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান যেমন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাকাব, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, আইসিবি এবং হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের জন্য পৃথক সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ এর কম নম্বর পেলে কোনো বোনাস দেওয়া হবে না। ৪০-৫০ নম্বরে একটি, ৫০-৬০ নম্বরে দেড়টি, ৬০-৭০ নম্বরে দুটি, ৭০-৮০ নম্বরে আড়াইটি এবং ৮০-এর বেশি নম্বর পেলে সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস দেওয়া যাবে। প্রতিটি বোনাস হিসাব বছরের শেষ মাসের মূল বেতনের সমান হবে।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে বোনাস দেবে। অন্যদিকে বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। বিশেষ কোনো বছরে নির্দিষ্ট বোনাস প্রাপ্য না হলেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের ভিত্তিতে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ এক্স-গ্রেসিয়া বোনাসের সুযোগ রাখা হয়েছে।
