আজিজুল হাকিম রাকিব: ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসেছে বদলের হাওয়া। দেশের রাজনীতির পাশাপাশি পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি শেষ হওয়া ডাকসু নির্বাচন দেশের মানুষের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। এ নির্বাচনে সবথেকে বেশি যে বিষয়টি জনগনের নজর কেড়েছে তা হলো; ভিন্নধর্মী প্রচারণা।
এ নির্বাচনে প্রার্থীদেরকে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা নির্বাচনী প্রচারণার অলিখিত নিয়ম থেকে বেরিয়ে এসে এক্ষেত্রে নতুনত্ব আনতে দেখা গেছে। প্রচারণার ক্ষেত্রে অনেকে বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, কেউবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্বশরীরে; উভয় পদ্ধতিতেই প্রচারণা চালিয়েছেন।
এছাড়া, পোস্টার ও লিফলেটের ক্ষেত্রে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা নিয়ম থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কিছু করতে দেখা গেছে। অনেকেই তাদের পোস্টার এবং লিফলেট আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য অনেক ধরণের পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। কেউ বা তাদের লিফলেট বানিয়েছেন প্রজাপতি অথবা গিটারের আদলে, কেউ বানিয়েছেন বুকমার্ক, কেউ বা বানিয়েছেন হাতপাখা অথবা বিড়াল। এছাড়াও পোস্টারে আরো অনেকধরণের নতুনত্ব দেখা গেছে।
আসন্ন রাকসু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও এ ধরণের নতুনত্ব দেখা গেছে। প্রচারের ক্ষেত্রে ভিন্নতা আনার বিষয়ে জানতে চাইলে সিনেট-এ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ১১ নম্বর ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তানজিম হাসান বলেন, “প্রচারে ভিন্নতা আনার জন্য আমি লিফলেটে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছি। এর আগে আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনেও ভিন্নরকম লিফলেট বানানোর প্রবণতা দেখেছি, যা বেশ সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। আমি আমার লিফলেটে অরিগামিকে প্রাধান্য দিয়েছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে কয়েক লক্ষ লিফলেট ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণে কাগজ নষ্ট হচ্ছে। সেজন্য পরিবেশদূষণ একটু হলেও কমানোর জন্য আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি। এটা একটা জাপানিজ কালচারাল প্র্যাক্টিস। অর্থাৎ কাগজকে ভাজ করে কোন একটা জিনিস বানানো। আমার লিফলেটের সাইজটাও সেভাবে করা এবং উলটো পাশে কীভাবে অরিগামি টা বানাতে হবে সেগুলোর ধাপগুলো দেওয়া আছে। যে কেউ সে অনুযায়ী লিফলেটটা নিয়ে এটা বানিয়ে ফেলতে পারবে।”
প্রচারের ক্ষেত্রে নতুনত্ব এবং এর প্রভাব সম্পর্কে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচনের ভোটার’রা যে প্রজন্মের তারা সবক্ষেত্রেই নতুনত্ব এবং একটু ইউনিক জিনিস পছন্দ করেন। ভোটের প্রচারণার ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতিতে তারা নতুনত্ব না পেয়ে এটির প্রতি অনেকটা বিরক্ত তাই ইউনিক কিছু করলে অথবা প্রচারণায় নতুনত্ব আনলে এটি তাদের মনে জায়গা করে নিচ্ছে এবং খুব সহজে তাদের মন জয় করে নিচ্ছে। এবং যারা ভোটে প্রার্থী হচ্ছেন তারাও এই প্রজন্মের হওয়ায় তারাও ইউনিক প্রচারণার ক্ষেত্রে ইউনিক ইউনিক বিষয়সমূহকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এটি আমাদের সমাজের জন্য কোনো খারাপ বার্তা বহন করছে না। এটি আমাদেরকে পরিবর্তনের পথ দেখাচ্ছে। আশা করা যায় যে ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সানাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কিছু চেষ্টা করবে।”
বর্তমানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার ভোটারদের মতামত এবং চিন্তাচেতনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ইশতেহার প্রদান করা হচ্ছে তাদেরকে কেন্দ্র করে যা দেশের রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এ পরিবর্তনের ধারা অব্যহত থাকুক, দেশের রাজনীতি হয়ে উঠুক জনবান্ধব এবং ভোট পরিণত হোক দেশের আপামর জনতার উৎসবে।
