ডেস্ক রিপোর্ট:বলিউডে বহুদিন ধরেই “উত্তরের ছেলে আর দক্ষিণের মেয়ে”-র প্রেম নিয়ে নানা সিনেমা হয়েছে। চেন্নাই এক্সপ্রেস (২০১৩) কিংবা টু স্টেটস (২০১৪) এর মতো ছবিতে এই গল্প দর্শকদের মন জয় করেছিল। তবে সিদ্দার্থ মালহোত্রা ও জাহ্নবী কাপুর অভিনীত সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত পরম সুন্দরী প্রমাণ করল—দশক পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ ভারতকে বোঝার ক্ষেত্রে বলিউডের দৃষ্টিভঙ্গি খুব বেশি বদলায়নি।

ছবির কাহিনি শুরু হয় দিল্লির এক যুবক পরমকে ঘিরে, যিনি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অ্যাপের মাধ্যমে নিজের জীবনসঙ্গী খুঁজতে গিয়ে পৌঁছে যান কেরালায়। সেখানে পরিচয় হয় সুন্দরীর সঙ্গে। কিন্তু সুন্দরীর চরিত্র যেন কেবলই স্টেরিওটাইপের ফাঁদে আটকে থাকে—নারকেল গাছে ওঠা, হাতির সঙ্গে বন্ধুত্ব, অনাথ হয়ে যাওয়া, মোহিনীয়াট্টম নাচে স্বপ্ন হারানো—সবকিছুই কেবল চেনা ছকের পুনরাবৃত্তি।
অন্যদিকে, সিদ্দার্থের চরিত্র পরমও এক ধনী বখাটে তরুণ ছাড়া আর কিছু নয়। তার প্রেম যেন হঠাৎ করেই জন্ম নেয়, অথচ সম্পর্কের জন্য কোনও বোঝাপড়া বা প্রচেষ্টা চোখে পড়ে না। গল্পের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলো—যেমন ওনাম উৎসব, কেরালার খাবারের ঐতিহ্য কিংবা সুন্দরীর নাচ—সবই উপর উপর থেকে দেখানো হয়েছে, গভীরতা নেই।

চেন্নাই এক্সপ্রেস বা টু স্টেটস-এর সাফল্যের রহস্য ছিল চরিত্রদের ভেতরের টানাপোড়েন আর আবেগের বাস্তবতা। অথচ পরম সুন্দরী সেই জায়গায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ভালোবাসা আসলে কীভাবে দৈনন্দিন জীবনের ভিন্নতা, উৎসব-সংস্কৃতি বা পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকে—এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে গেছে ছবিটি।
একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিলে গল্পটি আরও বাস্তব ও সম্পর্কযোগ্য হতে পারত। যেমন—পরম সুন্দরীর নাচের অনুষ্ঠানে তাকে গর্বভরে সমর্থন করে, বা দু’জন মিলে ওনাম-লোহরি একসঙ্গে উদ্যাপন করার মতো নিজস্ব ঐতিহ্য তৈরি করে। এমনকি একটি খোলা সমাপ্তিও দেওয়া যেত—পরিবারের আপত্তি রয়ে গেলেও তারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত পরম সুন্দরী হয়ে উঠেছে এমন এক ছবি, যা প্রেমের গল্প বলার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও সেটিকে নষ্ট করেছে অতিরিক্ত স্টেরিওটাইপ আর অগভীর উপস্থাপনার কারণে।
সূত্র :দ্য ইন্ডিয়ান টাইমস
আরো পড়ুন :অভিনয়জগৎ থেকে দূরে মেহজাবীন,ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন স্বামীর সাথে
