ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ৩১ আগস্ট চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত থাকবেন। ২০১৮ সালে ছিংদাও সম্মেলনের পর এটাই মোদির প্রথম চীন সফর।

২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশ ও গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে প্রাণহানির পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। চার বছর পর গত অক্টোবরে টহল চুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া কিছুটা অগ্রসর হলেও তা পূর্ণাঙ্গ সমাধানে পৌঁছায়নি।
তবু অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে ভারত চীনের উপর আরও নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। বর্তমানে ভারত-চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে প্রায় ১২৮ বিলিয়ন ডলার হলেও এর মধ্যে প্রায় ১১৩ বিলিয়ন ডলারই ভারতের আমদানি। সোলার ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, গৃহস্থালি সরঞ্জাম থেকে শুরু করে টানেল বোরিং মেশিন পর্যন্ত নানান খাতে চীন ভারতের জন্য অপরিহার্য হয়ে আছে।

‘চীনা পণ্য বর্জন’-এর রাজনৈতিক স্লোগানের বিপরীতে ভারতীয় শিল্পমহল বিগত চার বছরে বারবার চাপ সৃষ্টি করেছে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও অবকাঠামো খাতে বিকল্প উৎসের অভাব চীনা কোম্পানিগুলোকে নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে ভারতের শিল্প খাত আরও ঝুঁকিতে পড়েছে। অ্যাপল-ফক্সকনের মতো কোম্পানির মাধ্যমে দেশকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে উৎপাদনকেন্দ্র বানাতে চাইলেও যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের যোগান এখনও চীনের উপর নির্ভরশীল। সরকারের সর্বশেষ অর্থনৈতিক জরিপেও স্বীকার করা হয়েছে যে, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হতে হলে ভারতের চীনের সাপ্লাই চেইনের অংশ হওয়া অনিবার্য।
যদিও ভারত যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে চীনের অংশীদারিত্ব চাইছে, তবু বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার, চীনের অশুল্ক বাধা বা কাঁচামালের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো কোনো ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, মোদি-শি বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে চার বছর পর তৈরি হওয়া আলোচনার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই সম্পর্ক কতটা এগোবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণের উপর।
