
ডেস্ক রিপোর্টঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে বাংলাদেশ থেকে আইনবহির্ভূত গুমের সংস্কৃতি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
নিজেকে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দাবি করে আরও বলেন, জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিলে গুম প্রতিরোধ ও গুমের সংস্কৃতি বিতাড়িত করার জন্য প্রথম থেকেই আইন প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছুই করা হবে। বিচারবহির্ভূত গুম হওয়ার কোনো ঘটনার সৃষ্টি হবে না—এমন একটি বাংলাদেশের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।
আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকালে বাংলা একাডেমির মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় বিগত সময়ে বিচারবহির্ভূত গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি এমন প্রতিজ্ঞার কথা জানান।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি বাসভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে অপহরণ ও পরবর্তীতে গুম করা হয়। অতঃপর ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
গত সরকারের দীর্ঘ অপশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ তাড়ানোর আন্দোলনে আমাদের সন্তানদের রক্ত দিতে হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করে আজীবন অপশাসন করার যে স্বপ্ন তাদের ছিল, তার পরিবর্তে এখনো তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। এমন নির্মম দুঃশাসনের পরও তারা কোনো ধরনের ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।” এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের মানুষ পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের ক্ষমা করতে পারবে কিনা—সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এছাড়াও নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ১৬ বছর ধরে নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শরিক হওয়া দলগুলোর মধ্যে ঐক্যে ফাটল ধরানোর জন্য একটি মহল প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক ফাঁদে না পড়তে সকলের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
