নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তহবিল সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ফলে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংস্থাটির বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন ডিএনসিসির ২৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১,২৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ থাকার যে দাবি করেছেন, তা প্রকৃত চিত্র নয় এবং এতে নগরবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
প্রশাসক জানান, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বিভিন্ন ঠিকাদারী বিল সাধারণ তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাধারণ তহবিলে নগদ অর্থ ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে ৮২৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত ছিল, যা জরুরি দায় পরিশোধের জন্য রাখা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে সাধারণ তহবিলে নগদ স্থিতি ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলে ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায় হয় ১,১৭৮ কোটি টাকা। এই সময়ে মোট নগদ অর্থ দাঁড়ায় ১,৭৭৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যয় করা হয় ১,৪৩৯ কোটি টাকা। ফলে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে নগদ স্থিতি দাঁড়ায় ৩৩৬ কোটি টাকা।
পরবর্তীতে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ৮২০ কোটি টাকা এবং ওই সময়ে নগদ স্থিতি দাঁড়ায় ১,১৫৬ কোটি টাকা। তবে সাবেক প্রশাসক নতুন কিছু প্রকল্প গ্রহণ করে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ১,১৩১ কোটি টাকা ব্যয় করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসনের দাবি, সাবেক প্রশাসক ফিক্সড ডিপোজিটের ৮২৫ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল—যেমন জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল ও জিপিএফ হিসাবের প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকা একত্র করে মোট ১,২৬০ কোটি টাকার হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন।
এছাড়া সাবেক প্রশাসক দায়িত্বের শেষ কর্মদিবস ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাড়াহুড়ো করে ৩৬টি বিলের নথি অনুমোদন করেন, যার বিপরীতে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কথা রয়েছে। এসব নথি বর্তমানে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি। তাই নগরবাসীর মধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
