ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে বনানী সোসাইটি আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচি দেশের বহু অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে একের পর এক খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশব্যাপী পরিকল্পিতভাবে খাল খননের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হবে।
তিনি তাঁর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ উদ্যোগের আওতায় জলাবদ্ধতা, পরিবেশদূষণ, শিক্ষা সংস্কার, যুবসমস্যা ও স্বাস্থ্যখাতের সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যার সমাধানে সরাসরি উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যমান খালগুলোর সংস্কার ও পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকার সবুজায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে এসে তিনি দেখেছেন নগরীর পরিবেশ আগের তুলনায় অনেকটাই রুক্ষ হয়ে পড়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি নার্সারির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।পরিবেশবান্ধব বনায়নের জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি দল দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কোন এলাকায় কোন ধরনের গাছ উপযোগী—তা নির্ধারণ করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
রাজনীতির চর্চা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিরোধীদলের সমালোচনা রাজনীতির অংশ হলেও সংকট সমাধানে এখন গঠনমূলক আলোচনা ও বাস্তবসম্মত কাজের দিকে অগ্রসর হতে হবে।ঢাকার ভয়াবহ যানজট সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজধানী থেকে বের হওয়াই এখন একপ্রকার সংগ্রামের মতো।
এ সমস্যা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মেট্রোরেলের পাশাপাশি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল মনোরেল ব্যবস্থা চালু করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযুক্ত করা গেলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।ইউরোপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে জনপ্রতিনিধিরাও নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহার করেন। বাংলাদেশেও এমন সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
ক্রীড়াকে পেশাগত পর্যায়ে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ চালু করা হবে। ফরাসি, জার্মান, ম্যান্ডারিন, আরবি ও জাপানিজ ভাষার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
আইটি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে পেপালের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইটি পার্কগুলোকে কার্যকর করে সেখানে ফ্রি ওয়াই-ফাই ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা শহরে এখনো কোনো কেন্দ্রীয় অ্যাম্বুলেন্স সিস্টেম বা সঠিক মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। এর ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, তাঁর উপস্থাপিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের পানি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত এসব খাতে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি।
