ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে “সদস্য নির্বাচনে গণভোট” শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের ভূমিকা, গণভোটের গুরুত্ব এবং দেশে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ সভাপতিত্ব করেন।সভায় উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের সম্মতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, যখন জনগণের মতামত দীর্ঘ সময় উপেক্ষিত থাকে এবং রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে, তখন গণতন্ত্রকে তার প্রকৃত অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে শারমীন এস মুরশিদ বলেন, রাজনীতি থেকে নারীর ঝরে পড়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি গভীর কাঠামোগত ও ক্ষমতাগত বৈষম্যের ফল।
তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নারীরা নেতৃত্বের শক্ত উদাহরণ তৈরি করলেও প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিতে এসে তাদের অংশগ্রহণ উদ্বেগজনকভাবে কমে যায়।উপদেষ্টা বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অনেক নারী প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, যা রাজনৈতিক দলগুলোর সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতারই প্রতিফলন। তিনি জানান, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো দলই এ শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
দেশের মোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ নারী—তাদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব ছাড়া গণতন্ত্র অর্থবহ হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৪ থেকে ৪.৫ শতাংশ, যা মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। তিনি এটিকে অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে বলেন, ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন ও সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণের পরও কেন নারীরা এই পর্যায়ে এসে পিছিয়ে পড়ছে—সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।তিনি আরও বলেন, ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রায় ৩০টি দল একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি, যা নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
যে দল নারী প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়, তারা মৌলিক গণতান্ত্রিক অগ্রাধিকার পূরণ করছে কি না—সে প্রশ্ন সমাজ ও নারীদের নিজেদেরই তুলতে হবে।নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, নারী প্রার্থী ও নারী ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করবে।মতবিনিময় সভায় নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, নারী অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও উন্নয়নকর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বক্তব্য দেন। সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।
