১৫ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি, রিজার্ভ ছাড়াল ২৯ বিলিয়ন
ডেক্স রিপোর্ট: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক গতি ফিরেছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়ে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধি সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ও স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বুধবার সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। এর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই এক বিলিয়ন ডলার বাড়ায় রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলারের সরবরাহ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের দাম যাতে হঠাৎ করে কমে না যায় এবং বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত) কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৩ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে। শুধু নতুন বছরের জানুয়ারি মাসেই ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১১ মিলিয়ন ডলার, যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং সামগ্রিক মুদ্রাবাজার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে বাড়তি সক্ষমতা দেবে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক বাজার ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিজার্ভের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত রাখা, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক ব্যয়ের ওপর সতর্ক নজর রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বস্তি ও আশাবাদের বার্তা দিচ্ছে।
