নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)- এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে অন্তত ৯১৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১৩৩ জন নিহত এবং ৭,৫১১ জন আহত হয়েছেন। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সভা-সমাবেশকে ঘিরে সংঘর্ষ, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন স্থাপনা দখলকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ঘটনার মধ্যে ৪৮৬টি (৫৩ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপি ও তাদের সহযোগী ও মিত্র সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে। এসব ঘটনায় ৪,৭১৬ জন আহত (৬৩ শতাংশ) এবং ৮২ জন নিহত (৬২ শতাংশ) হন।
দলীয় সংঘর্ষের চিত্রও উদ্বেগজনক। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৫২টি সংঘর্ষে ৮০২ জন আহত এবং ১৯ জন নিহত হন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৬৯টি ঘটনায় ৬৭৬ জন আহত ও ২ জন নিহত হন। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ১৯টি ঘটনায় ১৪৩ জন আহত হন। আওয়ামী লীগ ও এনসিপির মধ্যে ২৩টি ঘটনায় ৬৬ জন আহত ও ১ জন নিহত হন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে ৯টি ঘটনায় ১১ জন আহত ও ২ জন নিহত হন।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রেও সহিংসতা দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১৩টি ঘটনায় ১৫৩ জন আহত ও ৭ জন নিহত হন। এনসিপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১৪টি ঘটনায় ৪৫ জন আহত, জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ২টি ঘটনায় ৫ জন আহত হন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে ৪টি ঘটনায় ৩৩ জন আহত হন এবং পুলিশ ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যেও ১২৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩৩ জনের মধ্যে ৯৩ জন (৭০ শতাংশ) বিএনপির, ২৩ জন (১৭ শতাংশ) আওয়ামী লীগের, ৩ জন জামায়াতের, ১ জন ইনকিলাব মঞ্চের, ১ জন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের, ৬ জন ইউপিডিএফের এবং ১ জন একটি চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৫ জনের পরিচয় নির্ধারণ করা যায়নি, যাদের মধ্যে একজন নারী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট ৭৬৭টি ঘটনা (৮৪ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরে বা বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে।
এছাড়া বছরজুড়ে অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১৬৯টি ঘটনা ঘটেছে, যাতে ১০৮ জন নিহত এবং ১৮৯ জন আহত হন। এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৩৪ জন আওয়ামী লীগ, ৬০ জন বিএনপি, ৬ জন জামায়াত (একজন নারীসহ) এবং ৮ জন অন্যান্য দলের সদস্য।
এইচআরএসএস জানায়, ২০২৫ সালে ২৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই সঙ্গে শতাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়, এবং হাজার হাজার বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
এইচআরএসএস সতর্ক করে বলেছে, রাজনৈতিক সহিংসতার এই প্রবণতা গণতন্ত্র, জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর রাজনৈতিক সংলাপ, দলীয় শৃঙ্খলা এবং নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
