ডেক্স রিপোর্ট: বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চরম সংকটে থাকা ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) চলতি সপ্তাহেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘অকার্যকর’ বা নন-ভায়েবল ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নির্ধারণে দ্রুত স্বাধীন অডিটর নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে তাদের মোট দেনা ও খেলাপি ঋণের সঠিক চিত্র উঠে আসে।
গভর্নর আশ্বস্ত করেন যে, অকার্যকর ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাধারণ আমানতকারীরা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকারের বিশেষ তহবিল ব্যবহার করে রমজানের মধ্যেই সাধারণ আমানতকারীদের মূল আমানত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশের ঋণ ইতোমধ্যেই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আরও জানান, দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ’ আলাদা কর্মপরিকল্পনা বা ‘পাথওয়ে টু সাকসেস’ বাস্তবায়ন করছে। ইসলামী ব্যাংক ও ইউসিবি ইতোমধ্যে আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করেছে, তবে অন্যান্য দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংকট কাটাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তহবিল প্রয়োজন হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ বাজেট ও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, অকার্যকরের তালিকায় থাকা এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার কোথাও ৭০ শতাংশ, আবার কোথাও ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পদক্ষেপকে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
