ডেস্ক রিপোর্ট: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।
অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকার রাস্তায় সাধারণ মানুষ ও যান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা গেছে। বিশেষ করে সড়কে বেসরকারি পরিবহনের উপস্থিতি অনেকটাই কম লক্ষ্য করা গেছে।
তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আওয়ামী লীগের যেকোনো পদক্ষেপ প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে দেখা গেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটভুক্ত সহযোগী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা।
আজ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এ দিনেই ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।
গত কয়েকদিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যা জনমনে নতুন করে অস্থিরতা ও সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ঢাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি ও আশপাশের জেলাগুলোতে আরও ২ প্লাটুন মোতায়েন করেছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, লকডাউনকে কেন্দ্র করে যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
রায়ের তারিখ ঘোষণা ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে আজ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ডিএমপির ১৭ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরাও।
এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর অভিযোগ ও যুক্তিতর্ক শেষে ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের জন্য দিন ঠিক করেন বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
