ডেস্ক রিপোর্ট: একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীরা এক মাসের মধ্যেই তাদের টাকা ফেরত পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন,
“এক্সাক্ট টাইম আমি বলব না। তবে এটি এ মাসের মধ্যেই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমরা আশাবাদী, এ মাসের শেষ নাগাদ যদি তারা চায়, আমরা তাদের হাতে টাকা দিতে পারব।”
তিনি আরও জানান, আজ থেকেই ওই ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসকেরা।
🔹 একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলো
একীভূত করা হচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি, এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি—এই পাঁচ বেসরকারি শরিয়াহ ব্যাংককে।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। এখন থেকে এই ব্যাংকগুলো চলবে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায়।
🔹 আমানত সুরক্ষা ও মূলধন কাঠামো
প্রশাসকেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ধাপে প্রত্যেক আমানতকারীকে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠন করবে “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক”, যার মোট মূলধন হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার, আর অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে আমানতকারীদের।
🔹 মালিকানা ও সংকটের পটভূমি
তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটির মালিকানায় ছিলেন এস আলম গ্রুপের মালিক, আর একটির মালিক ছিলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার।
সেই সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে তাদের আর্থিক অবস্থা ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে।
গভর্নর বলেন,
“সবচেয়ে খারাপ সময়টা চলে গেছে। এখন আর আস্থাহীন হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকার ওপর মার্কেট বেজড ইন্টারেস্ট পাবেন।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
