ডেস্ক রিপোর্টঃ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আজ (শুক্রবার) স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে জুলাই সনদ ২০২৫, কিন্তু স্বাক্ষরের আগেই দলিলটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, সনদটিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং বহু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩৩টি দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে সনদটি তৈরি করলেও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত অন্তত ২৮টি দল, যেমন জাতীয় পার্টি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি, এতে অংশ নেয়নি।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অনুপস্থিতি সনদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গণতন্ত্র মঞ্চের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আমি নিজে কমিশনকে বলেছিলাম ৯০-এর আন্দোলন অন্তর্ভুক্ত করতে, কিন্তু সেটি বাদ গেছে।”
তৎকালীন ছাত্রনেতা আমানউল্লাহ আমান বলেন, “১৯৫২ থেকে ১৯৯০ এর প্রতিটি আন্দোলন রক্তে লেখা ইতিহাস। ১৯৯০ বাদ দেওয়া ইতিহাসের প্রতি অন্যায়।”
এছাড়া বহু নিবন্ধিত দল অভিযোগ করেছে, তাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। জাতীয় পিপলস পার্টির শেখ সালাউদ্দিন সালু বলেন, “আমরা বারবার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।”
সনদে একটি বিতর্কিত ধারা যুক্ত হয়েছে—এর বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। এ নিয়ে নেতারা বলছেন, “এটি ভদ্রলোকের চুক্তি মাত্র, নাগরিকদের বিচারিক অধিকার অক্ষুণ্ণ।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত আজকের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে তাই প্রশ্ন রয়ে গেছে জুলাই সনদ ২০২৫ সত্যিই কি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, নাকি অসম্পূর্ণ এক রাজনৈতিক দলিল?
