ডেস্ক রিপোর্ট: পাকিস্তান ও আফগান তালেবান সরকারের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর দুই দেশ ৪৮ ঘণ্টার একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আফগানিস্তানের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “উভয় পক্ষ সংলাপের মাধ্যমে জটিল হলেও সমাধানযোগ্য এই ইস্যুর একটি ইতিবাচক সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবে।”
আজ সকালেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় দেশই একে অপরকে প্রথমে হামলা শুরু করার অভিযোগ করেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী স্পিন বোলদাক জেলায় তারা ১৫ থেকে ২০ জন আফগান তালেবানকে হত্যা করেছে। অপরদিকে আফগান তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
বিবিসির হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে রাতের অন্ধকারে গুলি বিনিময়, ধ্বংস হওয়া চেকপোস্ট ও হতাহতদের দৃশ্য, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্পিন বোলদাকে সকাল ৪টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পাঁচ ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। একজন স্থানীয় চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাতজনের মৃতদেহ এবং ৩৬ জন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
একজন স্থানীয় তালেবান কর্মকর্তা জানান, বিমান হামলায় তাদের কয়েকটি পোস্ট ধ্বংস হয়েছে এবং শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর-পশ্চিম সীমান্তেও পৃথক সংঘর্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন আফগান ও পাকিস্তানি তালেবান নিহত হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র শান্তির আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আমি বেসামরিক হতাহতের খবরে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।”
পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবান পাকিস্তানি তালেবানদের (টিটিপি) আশ্রয় দিচ্ছে, যারা ইসলামাবাদে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হামলা চালাচ্ছে। তবে আফগান তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
