ডেস্ক রিপোর্ট: এক মাসের স্থগিতাদেশ শেষে চট্টগ্রাম বন্দরে মধ্যরাত থেকে কার্যকর করা হয়েছে নতুনভাবে বর্ধিত ট্যারিফ।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে বন্দরে আগত সব জাহাজ, কনটেইনার ও কার্গো বিল নতুন হারে আদায় শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ ও হিসাবরক্ষণ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুস শাকুর স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়, ১৫ অক্টোবর থেকে বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর হবে।
বন্দরের তালিকাভুক্ত সব শিপিং এজেন্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তফসিলি ব্যাংকে নতুন হারে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রেখে আগত জাহাজের ছাড়পত্র (এনওসি) নিতে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরের মোট ৫২টি সেবাখাতের মধ্যে ২৩টিতে সরাসরি নতুন ট্যারিফ প্রযোজ্য হয়েছে। গড়ে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এই ট্যারিফ। বিশেষ করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খাতে সবচেয়ে বেশি মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ২০ ফুটি কনটেইনারের ট্যারিফ ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা, যা আগে ছিল ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা—অর্থাৎ প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভাড়া, টোল, ফি ও মাশুল ডলারের বিনিময়মূল্যের ভিত্তিতে আদায় করা হবে। প্রতি ডলারের হার ধরা হয়েছে ১২২ টাকা, ফলে ডলারের মান বাড়লে ট্যারিফও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রসঙ্গত, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ব্যবসায়ীদের আপত্তির পর নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশে এক মাসের জন্য তা স্থগিত রাখা হয়েছিল। মেয়াদ শেষে ১৩ অক্টোবর দিবাগত রাত থেকে নতুন হারে ট্যারিফ কার্যকর করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানান, ১৯৮৬ সালের পর ৩৯ বছর পর এবার ট্যারিফ বাড়ানো হলো। তিনি বলেন, “অপারেশনাল ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের ব্যয় সামাল দিতে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।”
