নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১৬ অক্টোবর প্রায় ৩৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাকসু, হল সংসদ এবং সিনেট-এ ছাত্র প্রতনিধি নির্বাচন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার এবং প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে। প্রার্থীরা নিজেদের লিফলেট আর ইশতেহার নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন, আর শিক্ষার্থীরা প্রার্থীদের ইশতেহার পড়ে বেছে নিচ্ছেন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে। প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থান, হল, মেস পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছেন।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো রাকসুতেও প্রচারণার ক্ষেত্রে নতুনত্ব দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরণের বিচিত্র পন্থা অবলম্বন করে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। সব থেকে বেশি নতুনত্ব এসেছে পোস্টার এবং লিফলেটে।
ভোটাররা এই প্রচার-প্রচারণা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন। এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, নির্বাচনী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় অনেকেই বিরক্ত হন। আমি বিরক্ত হচ্ছি না। আমি দল মত নির্বিশেষে সকল প্রার্থীকে সমানভাবে গুরুরত্ব দিচ্ছি এবং তাদের ইশতেহার শুনছি, পোস্টার-লিফলেট সংরক্ষণে রাখছি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে তাদের প্রচারণার কারণেই আমাদের নির্বাচনী আমেজ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রার্থীরা তাদের প্রতি সবার আগ্রহ এবং আচরণ দেখে অভিভূত হচ্ছেন। তারা বলছেন যে, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের উদ্দেশ্যেই প্রার্থীতা নেওয়া। তাই তাদের কাছে নিজেদের ইশতেহার পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এতো প্রচার প্রচারণা। ইশতেহার সহ খুঁটিনাটি সব বিষয় দেখেই শিক্ষার্থীরা বেছে নিবেন তাদের নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধিকে।
উল্লেখ্য, রাকসু, হল সংসদ এবং সিনেট-এ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন ২৫ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির মুখে নির্বাচনের তিনদিন পূর্বে এ নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৬ অক্টোবরকে নির্বানের জন্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সেসময় ছাত্রদল সহ বেশ কিছু প্যানেল এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও ইসলামী ছাত্র শিবির এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হলে রাকসু নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু ছুটির শেষে সে শঙ্কা কাটতে শুরু হয়। বর্তমানে আবারো পূর্ণদমে চলছে রাকসুর প্রচারণা এবং শিক্ষার্থী এবং প্রার্থীরা অপেক্ষায় রয়েছেন একটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের।
