ডেস্ক রিপোর্ট: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেছেন, সরকার দেশের কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যবসা-বান্ধব করতে কাজ করছে। ডিজিটালাইজেশন এবং কর আইন সংস্কার এই প্রক্রিয়ার মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা সবকিছু ডিজিটাল করার চেষ্টা করছি, যাতে সিস্টেমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা না যায়। এটি রাজস্ব প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও দক্ষতা আনার বড় পদক্ষেপ।”
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI) আয়োজিত ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনবিআরের সদস্য ব্যারিস্টার মতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ট্যাক্স রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর নগদ রিফান্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে এই বছর সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, ইনকাম ট্যাক্স আইন ২০২৩-এর ইংরেজি সংস্করণ সরকারি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট আইন ইংরেজিতে অফিসিয়ালভাবে পাওয়া যাবে।
চেয়ারম্যান বলেন, “কর ফাইল করা এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে কর্পোরেট রিটার্ন অনলাইনে জমা দিতে হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।”
তিনি স্বীকার করেন, বাংলাদেশের কর আইন এখনও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবে সংস্কার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে।
রাজস্ব সংগ্রহ বিষয়ে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব সংগ্রহ ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (NSW) সিস্টেমের মাধ্যমে সব ডাবল ট্যাক্সেশন এগ্রিমেন্ট (DTA) সংশ্লিষ্ট সনদ ডিজিটালভাবে ইস্যু করা হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট ইস্যু করা হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ এক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, এনবিআরের পাশাপাশি ১৮টি সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হচ্ছে। ডিটিএ সংক্রান্ত সনদ যেমন রয়্যালটি, ব্যবসার লাভ, ডিভিডেন্ড ও সুদের সনদ শিগগিরই অনলাইনে পাওয়া যাবে।
কাস্টমস মূল্যায়ন বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “মূল্যায়নের ভিত্তি অবশ্যই ট্রানজ্যাকশন প্রাইস হবে। আমি এটি পাঁচবার বলছি।”
চেয়ারম্যান আরও বলেন, “যদি কেউ ১০০ টাকার মাল ৫০ টাকায় ঘোষণা করে, আমরা তা ধরব; কিন্তু সঠিক ঘোষণা দিলে হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না।”
তিনি স্বীকার করেন, কিছু কাস্টমস হাউসে এখনও অনিয়মের অভিযোগ আছে। তবে প্রশাসনিক ও নীতিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে কাস্টমস কার্যক্রমে আস্থা ও সততা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “এইসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কর প্রশাসন হবে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং ব্যবসা-বান্ধব।”
