ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের মূল্যস্ফীতি ১২.৫ শতাংশ থেকে কমে ৮.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত এখনো পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না হলেও, চলমান সংস্কার কার্যক্রমে ধীরে ধীরে অগ্রগতি হচ্ছে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত “স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের কৌশল বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি”র বৈঠকে গভর্নর এসব তথ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গভর্নর জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর উপযোগী রয়েছে। তিনি বলেন, “গত দুই মাসে মূল্যস্ফীতি আরও কমে প্রায় ৭ শতাংশে নামতে পারত, কিন্তু চালের দামের সাময়িক বৃদ্ধির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন চালের দাম আবার কমতে শুরু করেছে, ফলে সামনের দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও হ্রাস পাবে।”
খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি সম্পর্কে গভর্নর বলেন, “বর্তমানে খেলাপি ঋণ ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার ব্যাপক দুর্নীতি ও ব্যাংক লুটের ফল।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন খেলাপি ঋণ ২৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪-৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
অর্থনৈতিক খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গভর্নর জানান, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করা হবে এবং নয়টি নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ৯০০ কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড গঠন করা হচ্ছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে ৬০০ কোটি টাকা দেবে।
তিনি আরও বলেন, “রাজস্ব আয় বাড়ানো ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার খরচ কমাতে বাংলাদেশে একটি ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।”
বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানসহ সরকার ও বেসরকারি খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই ও বিএপিআই নেতারাও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
