ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.৮ শতাংশে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬.৩ শতাংশে পৌঁছাবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাণিজ্য উন্মুক্তকরণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল উচ্চ রপ্তানি, রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, “অর্থনীতি দৃঢ়তা দেখিয়েছে, কিন্তু এটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যায় না। শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে বাংলাদেশকে সাহসী সংস্কার এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।”
ড. পেমের মতে, এর মধ্যে রয়েছে—
- অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি
- ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা
- জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস
- নগরায়ণ পরিকল্পনা উন্নয়ন
- বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শ্রমবাজারে নারী এবং যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। গত দুই দশকে শিল্পখাতের চাকরি ঢাকায় ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রিভূত হওয়ায় আঞ্চলিক সমান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোকে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা সর্বাধিকভাবে কাজে লাগানো এবং বাণিজ্য বাধা হ্রাসের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে শুল্ক হ্রাস ও বড় ধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
