ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে সাধারণ মানুষের আমিষের বড় উৎস পাঙাশ মাছের উৎপাদন ক্রমেই কমছে। গত আট বছরে মাছটির উৎপাদন কমেছে প্রায় এক লাখ সাত হাজার টন। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাবারের দাম বৃদ্ধি, রোগের প্রাদুর্ভাব ও কম লাভজনক হওয়ায় চাষিরা এখন পাঙাশ চাষ থেকে সরে যাচ্ছেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৬–১৭ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১০ হাজার টন পাঙাশ উৎপাদন হয়েছিল। তবে ২০২২–২৩ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৪ লাখ ৩ হাজার টনে। যদিও পরের বছর উৎপাদন সামান্য বেড়েছে, তবুও মোট উৎপাদনে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পাঙাশের উৎপাদন কমলে সাধারণ মানুষের মাছ খাওয়া কমে যাবে, এতে পুষ্টি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সরকারকে চাষিদের ঋণসহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।”
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসফ-উদ্-দৌলাহ জানান, “খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার রোগের কারণে মাছ মারা যাওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এজন্য অনেকে পাঙাশ ছেড়ে তেলাপিয়া বা অন্য মাছ চাষে যাচ্ছেন।”
২০২৩–২৪ অর্থবছরে দেশে মোট ৪ লাখ ৪ হাজার ৯৬৩ টন পাঙাশ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলা একাই উৎপাদন করেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার টন, যা মোট উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ। এরপর কুমিল্লা ও বগুড়া রয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে।
চাষিরা জানান, এক কেজি পাঙাশ উৎপাদনে এখন খরচ হয় ১২৫–১৩০ টাকা, বিক্রি করতে হয় ১৩৫–১৪০ টাকায়। ফলে মুনাফা খুবই সীমিত। কুমিল্লার চাষি জহির রায়হান বলেন, “মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, তাই চাহিদাও কিছুটা কম। পাঙাশ রপ্তানি করা গেলে আমরা ভালো দাম পেতাম।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঙাশ উৎপাদনের ৭০–৮০ শতাংশ ব্যয় মাছের খাবারের পেছনে যায়। প্রতি টন খাবারের দাম ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা হওয়ায় চাষিদের লাভ কমছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, “খাবারের দাম না কমলে পাঙাশ চাষ টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের স্বীকার করেছেন, “বিদেশি খাবারের দাম ও উৎপাদন খরচ বাড়ছে। গবেষণার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে সাশ্রয়ী খাবার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
