ডেস্ক রিপোর্ট: মার্কিন বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের শেয়ারমূল্য শুক্রবার প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ৭৩৭ ম্যাক্স ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত বোয়িংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক টার্নিং পয়েন্ট। দীর্ঘ ১৮ মাসের কঠোর নজরদারি শেষে এফএএ আবারও কোম্পানিটিকে কিছু বিমানের নিরাপত্তা সনদ দেওয়ার সীমিত ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছে।
এর আগে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা—২০১৯ সালের লায়ন এয়ার ও ২০২২ সালের ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস—এর পর বোয়িংয়ের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন সংস্থাটির ৭৩৭ ম্যাক্স ও ৭৮৭ মডেলের বিমান উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এফএএ জানিয়েছে, বোয়িং প্রতি দুই সপ্তাহে একবার করে বিমান ওড়ার উপযুক্ততা সনদ দিতে পারবে, তবে সংস্থা এখনই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত নয়। এফএএর ভাষায়, “নিরাপত্তাই আমাদের মূলকথা। বোয়িংয়ের উৎপাদন প্রক্রিয়া এখনো কঠোর নজরদারিতে থাকবে।”
এই আংশিক ছাড়ের পর বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে টার্কিশ এয়ারলাইনস, নরওয়েজিয়ান গ্রুপ, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে নতুন বিমান সরবরাহের অর্ডার পেয়েছে বোয়িং। এমনকি বাংলাদেশও বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন অর্ডার ও এফএএর অনুমতি বোয়িংয়ের জন্য পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হলেও, কোম্পানির সামনে এখনো নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
