ডেস্ক রিপোর্ট: খেতে মজাদার, আবার পুষ্টিতেও ভরপুর—এমনই এক খাবার বাদাম। চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম কিংবা পেস্তা—যেকোনো ধরনের বাদামই শরীরের জন্য উপকারী। তবে পরিমাণের হিসাব না মেনে বেশি খাওয়া কিন্তু উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন সতর্কতা জানিয়েছেন মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের পুষ্টিবিদ তাসরিয়ার রহমান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাদামে প্রচুর ভালো ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবার রয়েছে। এগুলো রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। পাশাপাশি ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সসহ ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকে বাদামে।
শরীরের জন্য উপকার
- হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে
- চোখ, হাড়, দাঁত ও ত্বকের সুরক্ষায় কার্যকর
- হজমশক্তি বাড়ায়
- মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
- ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
- সংক্রমণ প্রতিরোধ করে
- ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
কতটুকু খাওয়া উচিত?
ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ ৩০ গ্রাম বাদাম খেতে পারেন।
তাসরিয়ার রহমান জানান, বাদাম বেশি খেলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। কারণ ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে তা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া বাদামে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
যাদের কিডনি বা গলব্লাডারের সমস্যা আছে, তাদের কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ এতে থাকা অক্সালেট ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত ক্যালরি থাকার কারণে ওজন বেড়ে যাওয়া এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদাম রক্তচাপ বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। পুষ্টির জন্য বাদাম খান, তবে পরিমাণ মেনে। তাহলেই মজাদার এই খাবার হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যের সহায়ক।
