ছবিসূত্র- এনসিপি ওয়েবসাইট
ডেস্ক রিপোর্ট: সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর এনসিপির নেতৃত্বে হতাশা তীব্র আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনে এনসিপির ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) বড় ধরনের ভরাডুবির শিকার হয়। অথচ, উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে জামায়াত সমর্থিত ইসলামী ছাত্রশিবির।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নিজেদের ‘বিকল্প রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় এমন পরাজয়ে গভীর অস্বস্তিতে পড়েছে নাহিদ, সারজিস ও হাসনাতরা।
এদিকে, গত শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লিখেছেন, বাংলাদেশে নতুন করে আরেকটি ‘ছায়া মওদুদীবাদী দল’ দরকার নেই। যদিও সরাসরি কোনো দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে অনেকের মতে, এই মন্তব্য এনসিপিকে উদ্দেশ্য করেই করা।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফল এনসিপির ভেতরকার দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিয়েছে। দলটির বামপন্থি একাংশ জামায়াত ঘেঁষা অবস্থান থেকে নিজেদেরকে সরে আসার পরামর্শ দিচ্ছে। অপরদিকে ইসলামপন্থি অংশ জামায়াতের সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতার পক্ষে। এতে করে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠছে ধীরেধীরে।
এনসিপির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে সংগঠনকে নতুনভাবে সাজাতে এবং নিজেদের স্বাধীন অবস্থান তুলে ধরতে তারা বেশ চাপের মুখে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব দাবি করেছেন, জামায়াতের সঙ্গে এখন এনসিপির কোনো ঘনিষ্ঠতা নেই এবং নিকট ভবিষ্যতে যুগপৎ আন্দোলনেরও কোনো সম্ভাবনা নেই।
বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খান বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন মতাদর্শ, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে এনসিপির মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এটি কেবল একটি দলের সমস্যা নয়; রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের সংকট প্রায় সব নতুন দলের ভেতরেই দেখা যায়।
সব মিলিয়ে, এনসিপির নেতৃত্বে হতাশা এখন দলটির রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে এবং এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ পথচলায় বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: হাসিনার মতো কথা বলে ক্ষমতায় যেত চাই না: ফারুক
Find us on Facebook
