
ডেস্ক রিপোর্ট: উত্তর কোরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যারা বিদেশি সিনেমা বা টিভি নাটক দেখছে কিংবা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই শাস্তি প্রকাশ্যে কার্যকর করা হয়, যাতে মানুষ ভয়ের কারণে আইন ভঙ্গ করতে সাহস না পায়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, গত এক দশকে দেশটির সরকার নাগরিকদের জীবনের প্রতিটি দিকের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, ফলে মানুষ আরও বেশি ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আজকের বিশ্বে আর কোনো জনগোষ্ঠী এভাবে এত সীমাবদ্ধতার মধ্যে নেই।
২০১৫ সালের পর থেকে অন্তত ছয়টি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে বিদেশি কনটেন্ট দেখা বা ছড়িয়ে দেওয়াকে উত্তর কোরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড-যোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। দেশ থেকে পালিয়ে আসা এক তরুণী জানান, তার তিনজন বন্ধু শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার নাটক রাখার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল।
মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনার ভল্কার তুর্ক সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উত্তর কোরিয়ার জনগণকে আরও দমন-পীড়ন, ভয় ও কষ্টের মধ্যে বাঁচতে হবে। পালিয়ে আসা অনেকে বলেছেন, খাবারের সংকট এখন চরম পর্যায়ে, দিনে তিনবেলা খাওয়া সেখানে এক ধরনের বিলাসিতার মতো হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিম জং উনের শাসনামলে প্রথমদিকে মানুষ উন্নতির আশা করেছিল, কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেঙে এখন চুরমার। স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জনের সুযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সীমান্তে কড়া পাহারা থাকায় আপাতত দেশ ছেড়ে পালানোর চিন্তা একপ্রকার দুঃস্বপ্নের মতো।
জাতিসংঘের ভাষায়, গত দশ বছরে সরকার নাগরিকদের জীবনের উপর “প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠা করেছে— অর্থনৈতিক, সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক কোনো ক্ষেত্রেই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই। পালিয়ে আসা এক উত্তর কোরিয়ান বলেছে, সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের “চোখ-কান বন্ধ করে রাখা” এবং সামান্যতম ভিন্নমতও দমন করা।
সূত্র: বিবিসি
