ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের বাইরে নির্বাচন পিছিয়ে গেলে তা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় — আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন — এই তিনটি বিষয় একে অপরের প্রতিস্থাপ্য নয়; প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদাভাবে এগোবে। নির্বাচনকে কোনো শর্তে আটকে রাখা যাবে না, নির্ধারিত সময়রেখায় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি বলেও তার বক্তব্য।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সালাহউদ্দিন এসব কথা বলেন। ওই বৈঠকটিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত ছিলেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
সালাহউদ্দিন জানান, সংবিধান নিয়ে ও প্রচলিত প্রণালীতে যে ১৯টি বিষয় এখনো সমাধান待 আছে, সেগুলো বাদ দিয়ে দ্রুত ভোট নিয়ে কোনো ধরণে জটিলতা তৈরি করা উচিত নয়। তিনি বলেন, কমিশনে মোট ৮২৬টি সংস্কার প্রস্তাব এসেছে; সেগুলো নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা করে অনেক বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র কিছু প্রস্তাবে দলীয় দ্বিমত বা সংশোধনের প্রস্তাব ছিল।
তিনি আরও বলেন, কমিশন এখন পর্যন্ত যেসব বিষয়ে ঐকমত্য করেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে; তবে প্রক্রিয়ার জন্য সময় লাগবে। কিছু বিষয় সহজে বাস্তবায়নযোগ্য, আবার কিছুতে আইনি পরামর্শ প্রয়োজন — বিশেষত যেসব সাংবিধানিক বদল পরবর্তী সংসদের ছাড়া অন্য ফোরামে করা যায় কি না, সেটি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, সনদকে আইনগত ভিত্তি দেওয়া না হলে কিছু দল স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকতে পারে — এজন্য কমিশন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং ড্রাফট আঙ্গিকেও দলীয়ভাবে লিখিত প্রতিক্রিয়া পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব বিষয় পরে কার্যকর নয় সেগুলো সনদে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক হবে না; নথিটি জাতীয় ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে নির্ভুল হওয়া প্রয়োজন।
জাতির সামনে তোলা সংস্কারের তালিকায় আরও অনেক বিষয় রয়েছে বলেও জানান তিনি। কমিশনে এসে প্রস্তাবিত মূল ১৯টির পাশাপাশি আরও বেশ কিছু মৌলিক ইস্যু চিহ্নিত হয়েছে; দলীয় পর্যায়ে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যও হয়েছে। সনদে ক্লারিক্যাল মিসটেক ও কিছু বিভ্রান্তিকর ভাষা থাকলে তা সংশোধন করে নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির উপর নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সালাহউদ্দিন বলেন, বিচার অব্যাহত রাখাই দলের অঙ্গীকার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন — বিচার ও সংস্কার চলুক, কিন্তু নির্বাচনকে বিচার বা সংস্কারের শর্তে আটকে রাখতে হবে না।
শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনিশ্চিত পরিবেশে চলে যাওয়া বা স্থগিত করা হয়, সেটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সুযোগ করে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময়মতো নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা প্রয়োজন — তা না হলে দেশের জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
