ডেস্ক রিপোর্ট: লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই। শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন।

লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে বিশেষ জনপ্রিয়তা পাওয়া ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ গান আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। সংগীতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান।
আজ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শিল্পীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেও সাধারণ মানুষ, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা তাঁকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সহযোগিতা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সংস্থা (জাসাস)।
ভিডিও কলে যোগ দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান সহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অসংখ্য মানুষ।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন,
“ফরিদা পারভীন শুধু একজন শিল্পী নন, শেষ জীবনে তিনি লালনের সাধকও ছিলেন। লালনের গানকে তিনি এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যার তুলনা নেই।”
বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় জাদুঘর, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কুষ্টিয়ায়। বাদ মাগরিব সেখানেই এই কিংবদন্তি শিল্পীর সমাহিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লালনের বাণী ও গানকে কুষ্টিয়ার সীমানা পেরিয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ফরিদা পারভীনের অবদান অপরিসীম। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সংগীত অঙ্গন এক মহীরুহ হারাল।
আরো পড়ুন : ৯৮তম অস্কার প্রতিযোগিতায় ডাক পেল বাংলাদেশি সিনেমা
