
ডেস্ক রিপোর্ট: দক্ষিণ এশিয়ায় টানা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এবার ভারতের রাজপথে দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের পর ভারতে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের আন্দোলন রূপ নিয়েছে তীব্র আকারে। এতে কেন্দ্রীয় সরকার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রায় তিন হাজার বিক্ষুব্ধ তরুণ পাটনা কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হন। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের বাসভবনের দিকে বের হয় মিছিল। এর ফলে কেতন মার্কেট, বকরগঞ্জ, গান্ধী ময়দান ও ডাকবাংলো স্কয়ারের মতো শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষক নিয়োগে শূন্যপদ হঠাৎ কমিয়ে দেওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মোদি সরকার রয়েছে ভীষণ চাপে । নতুন করে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী মত দমনের কারণে সেনাবাহিনীর ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানকে ইঙ্গিত করেও চলছে গুঞ্জন।
গত কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু দেশে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটে মাহিন্দা রাজাপক্ষে পদত্যাগ, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতন আর নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের জেরে বিক্ষোভে দিন কয়েক আগে ক্ষমতাচ্যুত হয় প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি।
এবার ভারতের রাজপথে শোনা যাচ্ছে পতনের বাঁশির সুর। সুতরাং জনমনে প্রশ্ন উঠতেই পারে— “তবে কি এবার মোদীর পালা?”
