
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে বিএনপি জানায়, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এহেন হামলা ও অগ্নিসংযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যাশায় জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা সৃষ্টি করবে। এটি গণতন্ত্র ও জুলাই চেতনার পরিপন্থী। ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধা দেওয়া নিছক স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

একই সঙ্গে বিএনপি মনে করে, প্রকৃত গণতন্ত্রে বহুদলের অংশগ্রহণ অনিবার্য। কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে কিনা বা দলটির টিকে থাকা নির্ভর করে জনগণের সমর্থনের ওপর। সেখানে হুমকি, হামলা বা সহিংসতার মাধ্যমে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সর্বজনীন বহুদলীয় গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রুহুল কবীর রিজভী বলেন, “জাতীয় পার্টির অফিসে হামলার ঘটনা কেবল একটি রাজনৈতিক দলে আক্রমণ নয়, বরং এটি সার্বিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনগণের মধ্যে গণতন্ত্র নিয়ে আস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে।”
বিবৃতিতে বিএনপি আরও উল্লেখ করে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভিন্নমত ও মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর সহিংসতা চালিয়ে বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে তাকে স্তব্ধ করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশুভ সংকেত। গণতান্ত্রিক সমাজে মতের ভিন্নতা মেনে নেওয়া ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রমাণ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় পার্টির অফিসে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে, উল্লেখ করা হয়েছে রিজভীর পাঠানো বিবৃতিতে।
