ডেস্ক রিপোর্ট: ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভিসা বাতিল করায় আব্বাসসহ আরও প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খবর বিবিসির।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও পিএলও শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে এবং একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চাইছে। তাই তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি।
জাতিসংঘ সদরদপ্তর চুক্তি অনুযায়ী, যে কোনো দেশের প্রতিনিধি নিউইয়র্কে বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও। তাই এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আব্বাসের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সদরদপ্তর চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুযারিক বলেন, “সব সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে আসন্ন ফ্রান্স ও সৌদি আরব আয়োজিত দুই-রাষ্ট্র সমাধান বৈঠকের প্রেক্ষাপটে।”
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’র এই মার্কিন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হবে “হামাসের সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা।”
অন্যদিকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপন, গাজার সংঘাত ও সুনির্দিষ্ট সীমান্ত না থাকার কারণে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন ঘটবে না।
