নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিলকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একসময় শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে নিজেকে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করলেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকরা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তৌফিকুল দীর্ঘদিন সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও ওবায়দুল মুক্তাদির এমপির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডেও তিনি সদস্য হন। এখনো বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির, ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম ও ফাউন্ডিং মেম্বার হিসেবে আছেন ওবায়দুল মুক্তাদিরের স্ত্রী। ওই বোর্ডের সদস্য হিসেবেই রয়েছেন তৌফিকুল ইসলাম মিথিল।

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির পরিচয়ে সভাপতি হলেও তিনি কলেজ পরিচালনায় আওয়ামী ঘরানার লোকদেরই প্রাধান্য দিচ্ছেন। বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ধারার শিক্ষক-কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি ও চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে যে তিনি প্রকৃতপক্ষে এখনো আওয়ামী রাজনীতির ঘনিষ্ঠই রয়ে গেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাউন্ডিং ট্রাস্টি অধ্যাপক শফিকুর রহমানের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শফিকুরের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যাচেষ্টার মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাউন্ডিং সদস্য হতে পারেন, তিনি কোনোভাবেই বিএনপির খাঁটি লোক হতে পারেন না।”
এমন প্রেক্ষাপটে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে দাবি জানিয়েছেন—অবিলম্বে তৌফিকুল ইসলাম মিথিলকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে একজন যোগ্য, স্বচ্ছ ও জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হোক।
