ডেস্ক রিপোর্টঃ গাজা যুদ্ধের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে ইসরায়েল নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্য এবার গাজা সিটি—যা হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক কার্যক্রমের প্রধান ঘাঁটি।
সরকারি অনুমোদনের পর ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) প্রায় ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে পুনরায় ডেকে পাঠিয়েছে। আরও ২০ হাজারের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এত বিশাল সেনা সমাবেশ সত্ত্বেও এক বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ইসরায়েলের হাতে কি আসলেই পর্যাপ্ত জনশক্তি আছে এই অভিযান সফল করার জন্য?
মাসের পর মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে গিয়ে সেনাদের মধ্যে ক্লান্তি বাড়ছে, কমছে মনোবল। বারবার রিজার্ভ ডাকা হওয়ায় অসন্তোষও তীব্র হচ্ছে। নেতৃত্বের ঘাটতি, দীর্ঘসময় পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অনিশ্চিত যুদ্ধ পরিস্থিতি সৈন্যদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এদিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে বন্দিদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে। তারা দাবি করছে—অভিযান নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে বন্দি মুক্তির পথ খোঁজা হোক। অন্যদিকে গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকট আন্তর্জাতিক চাপও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা সিটিতে প্রবেশ করা যতটা কঠিন, তার থেকেও কঠিন হবে ওই অঞ্চল ধরে রাখা। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, সুপরিকল্পিত সুড়ঙ্গপথ আর হামাসের প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে আইডিএফকে বড় পরীক্ষা দিতে হবে।
ফলাফল যাই হোক, প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—ইসরায়েল কি শুধু সামরিক শক্তি দিয়েই গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে এ যুদ্ধ আরও জটিল আকার ধারণ করবে?
