ডেস্ক রিপোর্ট: বর্তমান বাংলাদেশে শুধু রাজনীতিবিদ নন, সবার কাছেই অগ্রাধিকার পাচ্ছে অর্থনীতি। সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর অন্তর্নিহিত শক্তি আছে দেশের অর্থনীতির। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পোশাক শিল্প অর্থনীতি বড় করেছে। তবে পরবর্তী ধাপে যেতে হলে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন নিশ্চিতে শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়তে হবে,খবর সমকাল।
বুধবার রাজধানীর বনানী শেরাটন হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস সামিটে বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক ইপিএল আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জাপানি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কন্টেক্সচ্যুয়াল ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকাও হিরোসি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদি কার্যকর মূলধনের চমৎকার ব্যবহার প্রমাণ করেছে। তৈরি পোশাক শিল্প প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছে। এই সাফল্যকে পরবর্তী ধাপে নিতে হলে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন যুক্ত করতে হবে। তবে আমাদের মতো বিনিয়োগকারীদের আনতে হলে নিশ্চিত করতে হবে সুশাসন, সঠিক কাঠামো, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা। অনুগ্রহ করে সেদিকে কাজ করুন, আমরা সমর্থন করব।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশিরা এলে অর্থনীতিতে দ্রুত গতি যেমন পায়, তেমনি শঙ্কা দেখলে দ্রুতই চলে যায়। আমাদের ধরে রাখতে হলে রাজনীতিতে সহিংসতা করা চলবে না। আমি আসব, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে জাপানে ফিরে যাব।’
এশিয়া ফন্ট্রিয়ার ইনভেস্টমেন্টের ফান্ড ম্যানেজার রুচির দেশাই বলেন, গত বছর বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার পরিবর্তনের মিল আছে। শ্রীলঙ্কা এরই মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে পেয়েছে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে।
ভারতের ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ অমিতাভ চৌধুরী বলেন, নানা সংকট অবস্থার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর মতো অন্তর্নিহিত শক্তি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তবে এখানকার অর্থায়ন ব্যাংক খাতনির্ভর। এর ফলে কিছু অলিগার্ক তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনের বিকল্প নেই।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সরকার বদলের পর বিশ্বের অনেক দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। তবে বাংলাদেশে তা হয়নি। জিডিপি কমেনি, মূল্যস্ফীতি উল্টো কমেছে। আমাদের পুঁজিবাজারও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। সরকার শক্তিশালী ও সুশাসিত পুঁজিবাজার গড়ার জন্য কাজ করছে।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ বাজারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। এ বাজারের গভীরতা বাড়াতে ভালো কোম্পানি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনের খবর রটেছে। দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী খোঁজ নিতে শুরু করেছেন।
বিএসইসির কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন বলেন, শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ভোক্তা পণ্য কোম্পানি ও শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ইতোমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ করতে না এসে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আসেন।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় লড়ব, যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট না হয়।’
ব্র্যাক ব্যাংকের সাবেক এমডি সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে এমন ১০-১২টি কোম্পানি এখনও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। তারা আসে না, কারণ এ বাজারে আসা লাভজনক মনে করে না।
