ডেস্ক রিপোর্ট: মালয়েশিয়ায় তিন দিনের সফর শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকার পথে উড়াল দিয়েছে, খবর বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর।
বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করাসহ পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শ্রমিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনায় জোর দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল তাকে অভ্যর্থনা জানান।
পরদিন মঙ্গলবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রতিনিধি দল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়। সেদিনই পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি সরবরাহ, ব্যবসা এবং অন্যান্য সহযোগিতা সংক্রান্ত পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। আলোচনায় মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, অধিক সংখ্যক পেশাজীবী প্রেরণ, এবং শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বুধবার কুয়ালালামপুরে ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ায় দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা’ চালুর প্রস্তাব দেন। এ ভিসা চালু হলে মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সেখানেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া মালয়েশিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউকেএম) প্রধান উপদেষ্টাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে। সেখানে দেওয়া বক্তৃতায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান দেশের ত্রয়োদশ নির্বাচন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
এই সফরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুনসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
